সকল মেরুদণ্ডী কর্ডেট কিন্তু সকল কর্ডেট মেরুদণ্ডী নয় কেন? জানতে হলে আসুন

সকল মেরুদণ্ডী কর্ডেট কিন্তু সকল কর্ডেট মেরুদণ্ডী নয় | l


কর্ডেট প্রাণীর তিনটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- স্থিতিস্থাপক নটোকর্ড, পৃষ্ঠীয় ফাপা স্নায়ুরজ্জ এবং গলবিলীয় ফুলকা রন্ধ্র। এসব বৈশিষ্ট্য সবধরনের কর্ডেট প্রাণীর জীবনের যে কোনো দশায় কিংবা আজীবন পাওয়া যায়। Chordata পর্বের দুটি উপপর্ব যেমন- Urochordata ও Cephalochordata-র সদস্যদের ক্ষেত্রে কর্ডাটার বৈশিষ্ট্যগুলো আজীবন পাওয়া যায়। কিন্তু Vertebrata উপপর্বের ক্ষেত্রে জন্মাবস্থায় নটোকর্ড থাকলেও পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় তা কশেরুকা নির্মিত মেরুদণ্ড দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়। সেজন্য এদের মেরুদণ্ডী প্রাণী বলে। তাছাড়া স্নায়ুরজ্জ্বটি মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়। ফুলকা রন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায় এবং ফুলকা বা ফুসফুসের আবির্ভাব ঘটে। তাই বলা যায়, সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীই কর্ডেট কিন্তু সকল কর্ডেট প্রাণী মেরুদণ্ডী নয়।



জীববিজ্ঞান বিভাগ

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ, পিরোজপুর

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা নিও। আজ আমি তোমাদের জীববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্রের প্রথম অধ্যায়ের ুপ্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস বিষয়ের ওপর সৃজনশীল প্রশ্নোওর উপস্থাপন করা হলো।

সৃজনশীল প্রশ্ন : শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক কর্ডাটা পর্ব সম্বন্ধে বিশদ আলোচনা করার পর বললেন- “সকল মেরুদণ্ডীই কর্ডেট কিন্তু সকল কর্ডেট মেরুদণ্ডী নয়”এবং মানুষ এই পর্বের কয়েকটি শ্রেণির মধ্যে একটি শ্রেণির অন্তর্গত।

(ক) পঙ্গপাল কী ?                        

(খ) রুই মাছের হূদপিণ্ডকে ভেনাস হার্ট বলা হয় কেন ?                          

(গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রাণীটি কোন শ্রেণির অন্তর্গত ? উক্ত শ্রেণির সনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য তুলে ধর। 

(ঘ) উদ্দীপকে উল্লেখিত উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।                                        

প্রশ্নোত্তর ঃ

(ক) পঙ্গপাল ঃ ঘাসফড়িং এর বাদামী বর্ণের মাঝারি আকৃতির কিছু প্রজাতি যারা ঝাঁক বেঁধে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ঘুরে বেড়ায়, তাদেরকে পঙ্গপাল বলা হয়।

(খ) উত্তর ঃ রুই মাছের হূদপিণ্ডের ভিতর দিয়ে শুধুমাত্র যুক্ত রক্ত বাহিত হয়, কোনো যুক্ত রক্ত বাহিত হয় না। শুধুমাত্র যুক্ত রক্ত বহন করে বলে রুই মাছের হূদপিণ্ডকে শিরা হূদপিণ্ড বা ভেনাস হার্ট বলা হয়।

(গ) উত্তর ঃ উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রাণীটি হলো মানুষ। মানুষ Mammalia শ্রেণির অর্ন্তভূক্ত।

নিচে Mammalia শ্রেণির সনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য হলো-

১. এসব প্রাণীকূলের দেহ লোম দ্বারা আবৃত, কেবলমাত্র তিমি ব্যতীত। এদের স্তনগ্রন্থি ও ঘর্মগ্রন্থি রয়েছে।

২. এদের বহি:কর্ণে পিনা এবং উদর ও বক্ষগহ্বরের মধ্যস্থলে পেশীবহুল মধ্যচ্ছদা উপস্থিত থাকে।

৩. এদের চোয়ালে বিভিন্ন ধরণের দাঁত রয়েছে।

৪. এরা উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণীও বটে।

৫. এদের হূদপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট ও রক্তের লোহিতকণিকা নিউক্লিয়াস বিহীন।

(ঘ) উত্তর ঃ শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের উল্লেখিত উক্তিটি হলো-“ সকল মেরুদণ্ডীই কর্ডেট কিন্তু সকল কর্ডেট মেরুদণ্ডী নয়”

কর্ডাটা পর্বের অন্তর্ভূক্ত প্রাণীদের তিনটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- স্থিতিস্থাপক নটোকর্ড, পৃষ্ঠীয় ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু এবং গলবিলীয় ফুলকারন্ধ্র। এসব বৈশিষ্ট্য সব ধরণের কর্ডেট প্রাণীর জীবনের যে কোন দশায় কিংবা আজীবন দেখা যায়।  Chordata পর্বের দুটি উপ-পর্ব রয়েছে। যথা- Urochordata ও Cephalochordata. এ সকল সদস্যদের ক্ষেত্রে কর্ডাটা বৈশিষ্ট্যগুলো আজীবন পাওয়া যায়। কিন্তু Vertebrata উপ-পর্বের ক্ষেত্রে ভ্রুণাবস্থায় নটোকর্ড থাকলেও পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় তা কশেরুকা নির্মিত মেরুদণ্ড দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়। ফুলকরন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায় এবং ফুলকা বা ফুসফুসের আবির্ভাব ঘটে। তাই শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের উক্তির সাথে একমত হয়ে বলা যায় যে, সকল মেরুদণ্ডীই কর্ডেট (কারণ ভ্রুণাবস্থায় কর্ডাটার সকল বৈশিষ্ট্য থাকে) কিন্তু সকল কর্ডেট মেরুদণ্ডী নয় ( কারণ, Urochordata ও Cephalochordata উপপর্বের প্রাণীদের নটোকর্ড কখনোই মেরুদণ্ড দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয় না)।

এই পাতার আরো খবর -
  • ২১ ফেব্রুয়ারি কোন জাতির ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন